০২:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দুর্যোগ ও বিপর্যয়: পার্থক্য কোথায়?

মোশাররফ হোসাইন: ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ একটা দুর্যোগ প্রবণ দেশ। আমাদের মতো দুর্যোগপ্রবণ দেশের প্রতিটি নাগরিকের বিপর্যয় (Hazard), দুর্যোগ (Disaster) ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (Disaster Management) ইত্যাদি সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা দরকার। এসবের আগে কোনটা বিপর্যয় আর কোনটা দুর্যোগ সেটা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেয়া উচিত। এই আমাদের অধিকাংশই এই দুটি বিষয় গুলিয়ে ফেলে।

যেমন আমরা বলি চালের ওজন পাঁচ কেজি আসলে এটা হবে চালের ভর পাঁচ কেজি। সব ধরনের প‍্যাকেটে ওজন কথাটি লেখা থাকে, ভর থাকে না। প্রকৃতপক্ষে ভর লেখা উচিত ছিল। কাজের কথায় আসি, বিপর্যয় (Hazard) হলো কোনো আকস্মিক চরম প্রাকৃতিক বা মানব সৃষ্ট ঘটনা যা জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের উপর প্রতিকূলভাবে আঘাত করে বিরূপ অবস্থার সৃষ্টি করে। বিপর্যয় পরবর্তীতে দুর্যোগের সৃষ্টি করে।এবার তাহলে দুর্যোগ কী? দুর্যোগ হচ্ছে এরূপ ঘটনা, যা সমাজের স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রচণ্ডভাবে বিঘ্ন ঘটায় এবং জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। ক্ষতিগ্রস্ত সমাজের পক্ষে নিজস্ব সম্পদ দিয়ে এই ক্ষতি মোকাবিলা করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। ফলে বাইরের সাহায্য বা হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হয়।

বিপর্যয় সৃষ্টির কারণের দিক থেকে দুই ধরনের- প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও মানব সৃষ্ট বিপর্যয়।প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্যে অন্যতম হলো আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, আর্সেনিক, খরা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, টর্নেডো, নদীভাঙ্গন, বন্যা, ভূমিধস, লবণাক্ততা, সুনামি, হিমবাহ ইত্যাদি। অপরদিকে মানব সৃষ্ট বিপর্যয়ের মধ্যে অন্যতম হলো অগ্নিকাণ্ড,খাদ্যে বিষক্রিয়া,যুদ্ধ, রাসায়নিক দূষণ।

এখন Disaster Management কী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা না বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা। আসলে পুরো ব্যাপারটা দুর্যোগ আর শুধু শুরুর দিকের অংশটা বিপর্যয়, এভাবেই চলছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা হচ্ছে এরূপ একটি ব্যবহারিক বিজ্ঞান যার আওতায় পড়ে- যথাযথ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং দুর্যোগে সাড়াদান ও পুনরুদ্ধার ইত্যাদি কার্যকর্ম।দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য হলো তিনটি যথা,
১. দুর্যোগের সময় জীবন, সম্পদ এবং পরিবেশের যে ক্ষতি হয়ে থাকে তা এড়ানো বা ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস করা।
২.প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মধ্যে অল্প সময়ে সকল প্রকার ত্রাণ পৌছানো ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং
৩. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার কাজ ভালোভাবে সম্পন্ন করা।

সার্বিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দুর্যোগপূর্ব, দুর্যোগকালীন এবং দুর্যোগ পরবর্তী সময়ের কার্যক্রমকে বোঝায়। নিম্নে প্রদত্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার উপাদানসমূহ ও দুর্যোগের কোন স্তরে কী ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করা প্রয়োজন যে ব্যাপারে আলোকপাত করা হলো।দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ছয়টি ধাপ রয়েছে যথা ১. প্রতিরোধ ২. প্রশমন ৩. পূর্বপ্রস্তুতি ৪. সাড়াদান

৫. উদ্ধার এবং ৬. উন্নয়ন। দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান। সুতরাং দুর্যোগকে কার্যত মোকাবিলার লক্ষ্যে দুর্যোগপূর্ব সময়েই এর ব্যবস্থাপনার বেশি কাজ সম্পন্ন করতে হয়। দুর্যোগ সংঘটনের পরপরই ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে, সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন। অতীতে দুর্যোগে সাড়াদানকেই সম্পূর্ণ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলে ধরে নেওয়া হতো।

১. প্রতিরোধ (Prevention): প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও এর ক্ষয়ক্ষতি কমানোর ব্যাপারে প্রতিরোধ কার্যক্রম সফলতা বয়ে আনতে পারে। দুর্যোগ প্রতিরোধের কাঠামোগত এবং অকাঠামোগত প্রশমনের ব্যবস্থা রয়েছে। কাঠামোগত প্রশমনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নির্মাণ কার্যক্রম যথা- বেড়িবাঁধ তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, পাকা ও মজবুত ঘর-বাড়ি তৈরি, নদী খনন ইত্যাদি বাস্তবায়নকেই বোঝায়।

কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন খুবই ব্যয়বহুল, যা অনেক দরিদ্র দেশের পক্ষে বহন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রতিরোধ যেমন- প্রশিক্ষণ, গণসচেতনতা বৃদ্ধি, পূর্বপ্রস্তুতি ইত্যাদি কার্যক্রম স্বল্প ব্যয়ে করা সম্ভব।

২. প্রশমন (Mitigation): দুর্যোগের দীর্ঘস্থায়ী হ্রাস এবং দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতিকেই দুর্যোগ প্রশমন বলে। মজবুত পাকা ভবন নির্মাণ, শস্য বহুমুখীকরণ, ভূমি ব্যবহারে বিপর্যয় হ্রাসের কৌশল নির্ধারণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শক্ত অবকাঠামো নির্মাণ, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর; প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠন ইত্যাদি কার্যক্রম দুর্যোগ প্রশমনের আওতাভুক্ত। দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ প্রশমন ব্যয়বহুল হলেও সরকার সীমিত সম্পদের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদী খনন, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, বনায়ন ইত্যাদি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

৩. পূর্বপ্রস্তুতি (Preparedness): দুর্যোগপূর্ব প্রস্তুতি বলতে দুর্যোপূর্ব সময়ে দুর্যোগের ঝুঁকি কমানোর ব্যবস্থাসমূহকে বোঝায়। আগে থেকে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল ও জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিতকরণ, দুর্যোগ সংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, জরুরি অবস্থা মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, ড্রিল বা ভূমিকা অভিনয় এবং রাস্তাঘাট, যানবাহন, বেতার যন্ত্র ইত্যাদি দুর্যোগের পূর্বে প্রস্তুত রাখা দুর্যোগ প্রস্তুতির অন্তর্ভুক্ত।

৪. সাড়াদান (Response): সাড়াদান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার একটি অংশ মাত্র। দুর্যোগের পরপরই উপযুক্ত সাড়াদানের প্রয়োজন হয়। সাড়াদান বলতে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে বোঝায়।

৫. পুনরুদ্ধার (Recovery): দুর্যোগে সম্পদ, পরিবেশ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো ইত্যাদির যে ক্ষতি হয়ে থাকে তা পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকেই পুনরুদ্ধার বোঝায়। এক্ষেত্রে সরকারি, অসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সাহায্য ও সহায়তার প্রয়োজন হয়।

৬. উন্নয়ন (Development): ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাকে দুর্যোগপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনার পরপরই ঐ এলাকার উন্নয়ন কাজে হাত দিতে হয়। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হাতে নেওয়ার পূর্বে ভৌগোলিক ও পরিবেশগত বৈশিষ্ট্যের উপর লক্ষ রাখতে হবে।

 

লেখক:-

মোশাররফ হোসাইন

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

Facebook Comments Box

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সম্পাদনাকারীর তথ্য

Mominul Haque Rubel

❅ জনপ্রিয়

দুর্যোগ ও বিপর্যয়: পার্থক্য কোথায়?

আপডেট : ০৭:৪৯:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ মে ২০২৩

মোশাররফ হোসাইন: ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ একটা দুর্যোগ প্রবণ দেশ। আমাদের মতো দুর্যোগপ্রবণ দেশের প্রতিটি নাগরিকের বিপর্যয় (Hazard), দুর্যোগ (Disaster) ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (Disaster Management) ইত্যাদি সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা দরকার। এসবের আগে কোনটা বিপর্যয় আর কোনটা দুর্যোগ সেটা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেয়া উচিত। এই আমাদের অধিকাংশই এই দুটি বিষয় গুলিয়ে ফেলে।

যেমন আমরা বলি চালের ওজন পাঁচ কেজি আসলে এটা হবে চালের ভর পাঁচ কেজি। সব ধরনের প‍্যাকেটে ওজন কথাটি লেখা থাকে, ভর থাকে না। প্রকৃতপক্ষে ভর লেখা উচিত ছিল। কাজের কথায় আসি, বিপর্যয় (Hazard) হলো কোনো আকস্মিক চরম প্রাকৃতিক বা মানব সৃষ্ট ঘটনা যা জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের উপর প্রতিকূলভাবে আঘাত করে বিরূপ অবস্থার সৃষ্টি করে। বিপর্যয় পরবর্তীতে দুর্যোগের সৃষ্টি করে।এবার তাহলে দুর্যোগ কী? দুর্যোগ হচ্ছে এরূপ ঘটনা, যা সমাজের স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রচণ্ডভাবে বিঘ্ন ঘটায় এবং জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। ক্ষতিগ্রস্ত সমাজের পক্ষে নিজস্ব সম্পদ দিয়ে এই ক্ষতি মোকাবিলা করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। ফলে বাইরের সাহায্য বা হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হয়।

বিপর্যয় সৃষ্টির কারণের দিক থেকে দুই ধরনের- প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও মানব সৃষ্ট বিপর্যয়।প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মধ্যে অন্যতম হলো আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, আর্সেনিক, খরা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, টর্নেডো, নদীভাঙ্গন, বন্যা, ভূমিধস, লবণাক্ততা, সুনামি, হিমবাহ ইত্যাদি। অপরদিকে মানব সৃষ্ট বিপর্যয়ের মধ্যে অন্যতম হলো অগ্নিকাণ্ড,খাদ্যে বিষক্রিয়া,যুদ্ধ, রাসায়নিক দূষণ।

এখন Disaster Management কী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা না বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা। আসলে পুরো ব্যাপারটা দুর্যোগ আর শুধু শুরুর দিকের অংশটা বিপর্যয়, এভাবেই চলছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা হচ্ছে এরূপ একটি ব্যবহারিক বিজ্ঞান যার আওতায় পড়ে- যথাযথ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং দুর্যোগে সাড়াদান ও পুনরুদ্ধার ইত্যাদি কার্যকর্ম।দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য হলো তিনটি যথা,
১. দুর্যোগের সময় জীবন, সম্পদ এবং পরিবেশের যে ক্ষতি হয়ে থাকে তা এড়ানো বা ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস করা।
২.প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মধ্যে অল্প সময়ে সকল প্রকার ত্রাণ পৌছানো ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং
৩. দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার কাজ ভালোভাবে সম্পন্ন করা।

সার্বিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দুর্যোগপূর্ব, দুর্যোগকালীন এবং দুর্যোগ পরবর্তী সময়ের কার্যক্রমকে বোঝায়। নিম্নে প্রদত্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার উপাদানসমূহ ও দুর্যোগের কোন স্তরে কী ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ করা প্রয়োজন যে ব্যাপারে আলোকপাত করা হলো।দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ছয়টি ধাপ রয়েছে যথা ১. প্রতিরোধ ২. প্রশমন ৩. পূর্বপ্রস্তুতি ৪. সাড়াদান

৫. উদ্ধার এবং ৬. উন্নয়ন। দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রশমন এবং দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মুখ্য উপাদান। সুতরাং দুর্যোগকে কার্যত মোকাবিলার লক্ষ্যে দুর্যোগপূর্ব সময়েই এর ব্যবস্থাপনার বেশি কাজ সম্পন্ন করতে হয়। দুর্যোগ সংঘটনের পরপরই ব্যবস্থাপনার অন্যান্য উপাদানের মধ্যে রয়েছে, সাড়াদান, পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন। অতীতে দুর্যোগে সাড়াদানকেই সম্পূর্ণ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলে ধরে নেওয়া হতো।

১. প্রতিরোধ (Prevention): প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও এর ক্ষয়ক্ষতি কমানোর ব্যাপারে প্রতিরোধ কার্যক্রম সফলতা বয়ে আনতে পারে। দুর্যোগ প্রতিরোধের কাঠামোগত এবং অকাঠামোগত প্রশমনের ব্যবস্থা রয়েছে। কাঠামোগত প্রশমনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নির্মাণ কার্যক্রম যথা- বেড়িবাঁধ তৈরি, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, পাকা ও মজবুত ঘর-বাড়ি তৈরি, নদী খনন ইত্যাদি বাস্তবায়নকেই বোঝায়।

কাঠামোগত দুর্যোগ প্রশমন খুবই ব্যয়বহুল, যা অনেক দরিদ্র দেশের পক্ষে বহন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। অকাঠামোগত দুর্যোগ প্রতিরোধ যেমন- প্রশিক্ষণ, গণসচেতনতা বৃদ্ধি, পূর্বপ্রস্তুতি ইত্যাদি কার্যক্রম স্বল্প ব্যয়ে করা সম্ভব।

২. প্রশমন (Mitigation): দুর্যোগের দীর্ঘস্থায়ী হ্রাস এবং দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতিকেই দুর্যোগ প্রশমন বলে। মজবুত পাকা ভবন নির্মাণ, শস্য বহুমুখীকরণ, ভূমি ব্যবহারে বিপর্যয় হ্রাসের কৌশল নির্ধারণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শক্ত অবকাঠামো নির্মাণ, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর; প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠন ইত্যাদি কার্যক্রম দুর্যোগ প্রশমনের আওতাভুক্ত। দীর্ঘস্থায়ী দুর্যোগ প্রশমন ব্যয়বহুল হলেও সরকার সীমিত সম্পদের মধ্যে বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ নির্মাণ, নদী খনন, আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, বনায়ন ইত্যাদি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

৩. পূর্বপ্রস্তুতি (Preparedness): দুর্যোগপূর্ব প্রস্তুতি বলতে দুর্যোপূর্ব সময়ে দুর্যোগের ঝুঁকি কমানোর ব্যবস্থাসমূহকে বোঝায়। আগে থেকে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল ও জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিতকরণ, দুর্যোগ সংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, জরুরি অবস্থা মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, ড্রিল বা ভূমিকা অভিনয় এবং রাস্তাঘাট, যানবাহন, বেতার যন্ত্র ইত্যাদি দুর্যোগের পূর্বে প্রস্তুত রাখা দুর্যোগ প্রস্তুতির অন্তর্ভুক্ত।

৪. সাড়াদান (Response): সাড়াদান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার একটি অংশ মাত্র। দুর্যোগের পরপরই উপযুক্ত সাড়াদানের প্রয়োজন হয়। সাড়াদান বলতে নিরাপদ স্থানে অপসারণ, তল্লাশি ও উদ্ধার, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে বোঝায়।

৫. পুনরুদ্ধার (Recovery): দুর্যোগে সম্পদ, পরিবেশ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো ইত্যাদির যে ক্ষতি হয়ে থাকে তা পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে দুর্যোগপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনাকেই পুনরুদ্ধার বোঝায়। এক্ষেত্রে সরকারি, অসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের সাহায্য ও সহায়তার প্রয়োজন হয়।

৬. উন্নয়ন (Development): ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাকে দুর্যোগপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনার পরপরই ঐ এলাকার উন্নয়ন কাজে হাত দিতে হয়। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হাতে নেওয়ার পূর্বে ভৌগোলিক ও পরিবেশগত বৈশিষ্ট্যের উপর লক্ষ রাখতে হবে।

 

লেখক:-

মোশাররফ হোসাইন

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

Facebook Comments Box