০১:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সলিমগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতার ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর উপজেলা সলিমগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা দেওয়ান আবুল আব্বাছ এর ১৫ তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে আজ রবিবার সকালে অত্র বিদ্যালয়ের হল রুমে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

অত্র বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ইমতিয়াজ মাহমুদ বেগ এর সঞ্চালনায় ও প্রধান শিক্ষক নিলুফা আক্তার এর সভাপতিত্বে দোয়া ও মিলাদ-মাহফিল পরিবেশন করেন বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক খন্দকার ফারুক আহমাদ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, অত্র বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সম্মানিত বিদ্যোৎসাহী সদস্য মোরশেদ আলম, দাতা সদস্য ইমামুজ্জামান পল্লব, অভিভাবক সদস্য নবী শিকদার, আমিনুল ইসলাম পিন্টু, এমরান হোসেন, সংরক্ষিত নারী সদস্য মাসেদা আক্তার লিজা প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষক- কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ টিফিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য: ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর উপজেলার বড়িকান্দি ইউনিয়নের বড়িকান্দি গ্রামে ১৯২৬ সালে ১ মার্চ এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে দেওয়ান আবুল আব্বাছ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ব্যক্তিজীবনে অত্যন্ত বিনয়ী, ধ্রুপদী ও শিক্ষানুরাগী এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষ ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের জন্য দেশ যখন উদগ্রিব নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্নে মানুষ যখন বিমুঢ় ঠিক তখনই মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে মুক্তিযুদ্ধের দক্ষ সংগঠক, সাবেক এমএলএ, এমএনএ অ্যাডভোকেট দেওয়ান আবুল আব্বাছ সাহেব এলাকার সুধীজন – গুণীজন মানুষদের সাথে নিয়ে ১৯৭১ সালে নারী শিক্ষার প্রসারে সলিমগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত করেন। যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে নারী জাগরণে এ বিদ্যাপীঠ বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে চলেছে। অত্র প্রতিষ্ঠান দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ, নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন আলোকিত আগামী প্রজন্ম গড়ে তুলতে বদ্ধ পরিকর। এ বিদ্যালয় প্রতিনিয়ত সমৃদ্ধ করে চলেছে দেশ ও দেশের নারী সমাজকে। শুধু মাত্র সলিমগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ই নয় নবীনগর – বাঞ্চারামপুর এলাকায় বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিনির্মাণে তাঁর বলিষ্ঠ ভূমিকা ও সহযোগিতা ছিলো। ১৯৫২ সাল থেকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত সলিমগঞ্জ আব্দুর রউফ মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর আস্থাভাজন ও ঘনিষ্ঠ সহচর। এই নির্লোভ মানুষটির বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে পারিবারিক ভাবে অবাধে যাতায়াত ছিলো। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, প্রবাসী সরকারের প্রথম যুব- ক্যাম্প নরসিংঘর এবং পরবর্তীতে বঙ্গশার্দূল ক্যাম প্রধান (আগরতলা) ছিলেন। ১৯৬২ সালে নবীনগর-বাঞ্চারাপুর এলাকার এমপিএ এবং প্রাদেশিক পরিষদের বিরোধী দলীয় উপনেতা ছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধ ইতিহাসের চতুর্থ খন্ডের অন্যতম পুরোধা এবং ১৯৭০ সালে এমএনএ অর্থাৎ গণপরিষদের সদস্য ছিলেন। ১৯৭২ সালে খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন। ১৯৮০- ৮১ সালে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ছিলেন। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনাল -২ এর চেয়ারম্যান ছিলেন।১৯৮৭ সালে স্বৈরাচারী এরশাদ বিরোধী আইনজীবীদের আন্দোলনে নেতৃত্ব দানের কারণে কারাবরণও করেন। বৃহত্তর কুমিল্লা আইনজীবী সমিতির (ঢাকা) প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। কৃতিমান এই মানুষটি ১৬ জুলাই ২০০৮ খ্রিস্টাব্দে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে সকলকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পারি জমিয়েছেন।

Facebook Comments Box
ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সম্পাদনাকারীর তথ্য

Dipu

❅ জনপ্রিয়

সলিমগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতার ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন

আপডেট : ০৯:০০:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুলাই ২০২৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর উপজেলা সলিমগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা দেওয়ান আবুল আব্বাছ এর ১৫ তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে আজ রবিবার সকালে অত্র বিদ্যালয়ের হল রুমে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

অত্র বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ইমতিয়াজ মাহমুদ বেগ এর সঞ্চালনায় ও প্রধান শিক্ষক নিলুফা আক্তার এর সভাপতিত্বে দোয়া ও মিলাদ-মাহফিল পরিবেশন করেন বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক খন্দকার ফারুক আহমাদ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, অত্র বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সম্মানিত বিদ্যোৎসাহী সদস্য মোরশেদ আলম, দাতা সদস্য ইমামুজ্জামান পল্লব, অভিভাবক সদস্য নবী শিকদার, আমিনুল ইসলাম পিন্টু, এমরান হোসেন, সংরক্ষিত নারী সদস্য মাসেদা আক্তার লিজা প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষক- কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ টিফিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য: ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর উপজেলার বড়িকান্দি ইউনিয়নের বড়িকান্দি গ্রামে ১৯২৬ সালে ১ মার্চ এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে দেওয়ান আবুল আব্বাছ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ব্যক্তিজীবনে অত্যন্ত বিনয়ী, ধ্রুপদী ও শিক্ষানুরাগী এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষ ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের জন্য দেশ যখন উদগ্রিব নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্নে মানুষ যখন বিমুঢ় ঠিক তখনই মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে মুক্তিযুদ্ধের দক্ষ সংগঠক, সাবেক এমএলএ, এমএনএ অ্যাডভোকেট দেওয়ান আবুল আব্বাছ সাহেব এলাকার সুধীজন – গুণীজন মানুষদের সাথে নিয়ে ১৯৭১ সালে নারী শিক্ষার প্রসারে সলিমগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত করেন। যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে নারী জাগরণে এ বিদ্যাপীঠ বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখে চলেছে। অত্র প্রতিষ্ঠান দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ, নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন আলোকিত আগামী প্রজন্ম গড়ে তুলতে বদ্ধ পরিকর। এ বিদ্যালয় প্রতিনিয়ত সমৃদ্ধ করে চলেছে দেশ ও দেশের নারী সমাজকে। শুধু মাত্র সলিমগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ই নয় নবীনগর – বাঞ্চারামপুর এলাকায় বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিনির্মাণে তাঁর বলিষ্ঠ ভূমিকা ও সহযোগিতা ছিলো। ১৯৫২ সাল থেকে ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত সলিমগঞ্জ আব্দুর রউফ মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর আস্থাভাজন ও ঘনিষ্ঠ সহচর। এই নির্লোভ মানুষটির বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে পারিবারিক ভাবে অবাধে যাতায়াত ছিলো। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, প্রবাসী সরকারের প্রথম যুব- ক্যাম্প নরসিংঘর এবং পরবর্তীতে বঙ্গশার্দূল ক্যাম প্রধান (আগরতলা) ছিলেন। ১৯৬২ সালে নবীনগর-বাঞ্চারাপুর এলাকার এমপিএ এবং প্রাদেশিক পরিষদের বিরোধী দলীয় উপনেতা ছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধ ইতিহাসের চতুর্থ খন্ডের অন্যতম পুরোধা এবং ১৯৭০ সালে এমএনএ অর্থাৎ গণপরিষদের সদস্য ছিলেন। ১৯৭২ সালে খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন। ১৯৮০- ৮১ সালে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ছিলেন। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনাল -২ এর চেয়ারম্যান ছিলেন।১৯৮৭ সালে স্বৈরাচারী এরশাদ বিরোধী আইনজীবীদের আন্দোলনে নেতৃত্ব দানের কারণে কারাবরণও করেন। বৃহত্তর কুমিল্লা আইনজীবী সমিতির (ঢাকা) প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। কৃতিমান এই মানুষটি ১৬ জুলাই ২০০৮ খ্রিস্টাব্দে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে সকলকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে পারি জমিয়েছেন।

Facebook Comments Box