১২:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০২৪, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদীতে নৌকা বাইচে চ্যাম্পিয়ান হলেন নবীনগর

গ্রামীন ঐতিহ্যার একটি বড় অংশ হলো নৌকা বাইচ। নদীমাতৃক বাংলাদেশে নদীকে কেন্দ্র করে প্রস্ফুটিত হয়েছে শিল্প, সংস্কৃতি ও সাহিত্যের বিকাশ।এজন্য দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও খেলাধুলার নদনদীর উপস্হিতি প্রবল। ভৌগোলিকভাবে শতশত নদনদী পরিবেষ্টিত এদেশের মানুষের বর্ষা মৌসুমে একমাত্র বহন ছিল নৌকা।আনন্দ উৎসবের এই ধারাবাহিকতায় নৌকা বাইচ গ্রাম বাংলার মানুষের কাছে পরিনত হয়েছে লোকালয় সংস্কৃতির এক সমৃদ্ধ ফসল। আবহমান বাংলার লোক ঐতিহ্যের এই নৌকা বাইচ বর্তমান সভ্য সমাজেও সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। জেলা প্রশাসন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্যােগে নৌকা বাইচের মত ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের মাঝে তুলে ধরা হচ্ছে জেলাবাসীর নিকট। কালের পরিক্রমার হারিয়ে যেতে বসলেও বর্তমান জেলা প্রশাসক মহোদয়ের একান্ত প্রচেষ্টায় গত বছর থেকে আবার নতুন করে শুভ সূচনা হয়েছে নৌকা বাইচের।

আর এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলা সদরের সিমরাইলকান্দি গাও গেরাম পয়েন্ট থেকে শহরের মেড্ডা পর্যন্ত ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার প্রশাসন কর্তৃক এই নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।৭ই সেপ্টেম্বর রোজ বৃহস্পতিবার বিকালে ব্রাহ্মনবাড়িয়ার শত বছরের ঐতিহ্য কে ফিরিয়ে আনতে এবং ব্রাহ্মনবাড়িয়া বাসীদের মাঝে তিতাস নদীর প্রানের স্পন্দন কে ফিরিয়ে দিতে এই আয়োজন। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যােগের ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সকল স্তরের আবাল বৃদ্ধ বনিতা নতুন উদ্যামে মেতে উঠেছে বাঁধ ভাঙা উল্লাসে।

তিতাস নদীর ছলাচ্ছল শব্দের সাথে এবং ঢেউয়ের তালে, তালে এগিয়ে যাচ্ছিল নৌকা বাইচ প্রতিযোগীরা। আর এই আনন্দঘন পরিবেশে অংশগ্রহণ করতে আসেন ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে অসংখ্য নৌকা বাইচ প্রেমী দর্শকরা। এসময় ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মোঃ শাহগীর আলম এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলা সদর আসনের সাংসদ সদস্য র.আ.ম. উবায়দুল মুক্তাদির চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মোঃ শাখাওয়াত হোসেন। ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আল মামুন সরকার। জেলা পৌরসভার মেয়র নায়ের কবির। প্রতিযোগীতায় প্রথম রাউন্ডে ৪ টি দল অংশ গ্রহন এর মধ্যে নবীনগর উপজেলা প্রথম স্থান অধিকার করে।

পরে ফাইনাল রাউন্ডে নবীনগর উপজেলা অন্য সব উপজেলাকে পিছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ান পুরষ্কার অর্জন করে। প্রতিযোগীতা শেষে প্রধান অতিথির কাছ থেকে নবীনগর উপজেলা প্রতিযোগীরা ১ লাখ টাকা দামের পুরস্কার গ্রাহন করেন। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে উপস্থিত ছিলেন নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর ফরহাদ শামীম এবং উপজেলা ভূমি নির্বাহী অফিসার মাহমুদা জাহান। পরে আনন্দঘন পরিবেশে মিছিল নিয়ে বাড়ি ফেরে।

Facebook Comments Box
ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সম্পাদনাকারীর তথ্য

Dipu

❅ জনপ্রিয়

আপডেট : ১০:০১:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস নদীতে নৌকা বাইচে চ্যাম্পিয়ান হলেন নবীনগর

গ্রামীন ঐতিহ্যার একটি বড় অংশ হলো নৌকা বাইচ। নদীমাতৃক বাংলাদেশে নদীকে কেন্দ্র করে প্রস্ফুটিত হয়েছে শিল্প, সংস্কৃতি ও সাহিত্যের বিকাশ।এজন্য দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও খেলাধুলার নদনদীর উপস্হিতি প্রবল। ভৌগোলিকভাবে শতশত নদনদী পরিবেষ্টিত এদেশের মানুষের বর্ষা মৌসুমে একমাত্র বহন ছিল নৌকা।আনন্দ উৎসবের এই ধারাবাহিকতায় নৌকা বাইচ গ্রাম বাংলার মানুষের কাছে পরিনত হয়েছে লোকালয় সংস্কৃতির এক সমৃদ্ধ ফসল। আবহমান বাংলার লোক ঐতিহ্যের এই নৌকা বাইচ বর্তমান সভ্য সমাজেও সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। জেলা প্রশাসন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্যােগে নৌকা বাইচের মত ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের মাঝে তুলে ধরা হচ্ছে জেলাবাসীর নিকট। কালের পরিক্রমার হারিয়ে যেতে বসলেও বর্তমান জেলা প্রশাসক মহোদয়ের একান্ত প্রচেষ্টায় গত বছর থেকে আবার নতুন করে শুভ সূচনা হয়েছে নৌকা বাইচের।

আর এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলা সদরের সিমরাইলকান্দি গাও গেরাম পয়েন্ট থেকে শহরের মেড্ডা পর্যন্ত ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার প্রশাসন কর্তৃক এই নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।৭ই সেপ্টেম্বর রোজ বৃহস্পতিবার বিকালে ব্রাহ্মনবাড়িয়ার শত বছরের ঐতিহ্য কে ফিরিয়ে আনতে এবং ব্রাহ্মনবাড়িয়া বাসীদের মাঝে তিতাস নদীর প্রানের স্পন্দন কে ফিরিয়ে দিতে এই আয়োজন। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যােগের ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সকল স্তরের আবাল বৃদ্ধ বনিতা নতুন উদ্যামে মেতে উঠেছে বাঁধ ভাঙা উল্লাসে।

তিতাস নদীর ছলাচ্ছল শব্দের সাথে এবং ঢেউয়ের তালে, তালে এগিয়ে যাচ্ছিল নৌকা বাইচ প্রতিযোগীরা। আর এই আনন্দঘন পরিবেশে অংশগ্রহণ করতে আসেন ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে অসংখ্য নৌকা বাইচ প্রেমী দর্শকরা। এসময় ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মোঃ শাহগীর আলম এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলা সদর আসনের সাংসদ সদস্য র.আ.ম. উবায়দুল মুক্তাদির চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মোঃ শাখাওয়াত হোসেন। ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আল মামুন সরকার। জেলা পৌরসভার মেয়র নায়ের কবির। প্রতিযোগীতায় প্রথম রাউন্ডে ৪ টি দল অংশ গ্রহন এর মধ্যে নবীনগর উপজেলা প্রথম স্থান অধিকার করে।

পরে ফাইনাল রাউন্ডে নবীনগর উপজেলা অন্য সব উপজেলাকে পিছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ান পুরষ্কার অর্জন করে। প্রতিযোগীতা শেষে প্রধান অতিথির কাছ থেকে নবীনগর উপজেলা প্রতিযোগীরা ১ লাখ টাকা দামের পুরস্কার গ্রাহন করেন। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে উপস্থিত ছিলেন নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর ফরহাদ শামীম এবং উপজেলা ভূমি নির্বাহী অফিসার মাহমুদা জাহান। পরে আনন্দঘন পরিবেশে মিছিল নিয়ে বাড়ি ফেরে।

Facebook Comments Box